ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা ও ক্ষুধা- সকল সমস্যার সমাধান করবে জাতির জনকের কন্যা- মানবতার মা শেখ হাসিনা।

কঠোর লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার জুন 28, 2021 থেকে। এক সপ্তাহ পর এই কঠোর লকডাউনের ক্ষেত্রে সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। জরুরী সেবা ছাড়া কোন যানবাহন চলবে না, মানুষ জরুরী সেবা ছাড়া ঘরের বাহির হতে পারবে না। এসবই সরকারী ঘোষনায় আসছে।

 

বিশ্বের সকল উন্নত দেশ সহ অন্যান্য দেশ যখন করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ করোনা মহামারী মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃবিন্দের কাছ থেকে বড় ধরনের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যা নিয়ে জাতি হিসেবে আমরা গর্ব অবশ্যই করতে পারি। যার পুরো কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই কোটি পরিবার প্রধান অস্থায়ী কর্ম ও রোজগারের উপর নির্ভরশীল। এসব পরিবার প্রধানদের কারও কারও মাস শেষ হলেই রুজির ধারাবাহিকতার অনিশ্চয়তা হয়ে যায়, কারও এক দিন অতিবাহিত হলে, কারও এক ঘন্টা অতিবাহিত হলেই রুজির পথ পরিবর্তন হয় বা মন্থর হয় বা বন্ধ হয়ে যায়। যা ভুক্তভূগি না হলে এর অবর্ননীয় বেদনার বিষয়টি আঁচ করা সম্ভব নয়। তারপরও এই বর্নিত আড়াই কোটি অভিভাবক তাদের আয়ের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েছে। এদের প্রতিনিয়ত রুজির পথের জন্য উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। এই ক্ষে্ত্রে চাকরি, ব্যবসা, শ্রমিক থেকে শুরু করে কনসালট্যান্ট পর্যন্ত রয়েছে। তার মধ্যে কেহ কেহ অত্যাধুনিক ডিজিটাল পর্যায়ে পদচারনা করে আবার কেহ কেহ প্রাচীন কালের ম্যানুয়াল কোন জীবিকার সাথে জড়িত আবার কেহে এসব পদ্ধতির মাঝামাঝি প্রযুক্তি বা ম্যানুয়ালে উপর নির্ভর করে রুজি করে।  াবা

করোনা মহামারীর গত প্রায় দেড় বছরে এসব রোজগারের সাথে জড়িতগন স্ব-স্ব তহবিল ভেঙ্গে খেয়েছে। কেহ কেহ ঋণগ্রস্থ হয়েছে।বর্তমানে কাজ আছে খাওয়া আছে, কাজ না থাকলে পরিবার সহ উপোষ ছাড়া এসব পরিবারের উপায় নেই।

দুর্ভাগবশত করোনা মহামারীতে সেই বিরামহিন প্রতিকুল রুজির পথে চলার পথিকদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধের পর্যায়ে। ঠিক তখনই আবার আসছে কঠিন লক ডাউন। আপূর্বের লকডাউনে এসব পরিবারদের সকলের পাশে সরকার সহ অন্য কেহ দাড়াতে পুরোপুরি সক্ষম হয়নি এবারও এদের সকলের পাশে দাড়ানোর কোন পরিকল্পনা সরকার সহ অন্যকারও সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে না। সরকার তার সাধ্যের মধ্যে করনীয় করে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য রাক্ষায় যেমন সকলকে সচেতন করে লক ডাউনের মাধ্যমে পুরো দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা দেওয়ার প্রচেষ্টা সরকার সহ নানাহ প্রতিষ্ঠান করে আসছে, একইভাবে যাদের রুজি বন্ধ হয়ে পরিবার সহ উপোষ করতে করতে লক ডাউনে দিনাতিপতা করতে হবে তাদেরকেও সরকার ও সংশ্লিষ্টগনকে সহায়তা প্রদান করতে হবে। কারন সকলেই বাংলাদেশের মানুষ এবং সকলের সমস্যাকেই সামাধা করতে হবে।

করেনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি বরাবরই লকডাউনের মাধ্যমে করোনাকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদানের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। যা জাতির কাম্য। পাশাপাশি লকডাউনের ফলে ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থার মত অতি প্রয়োজনীয় বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যেভাবে শুধু লকডাউনের কথা আসছে তাতে মনে হচ্ছে দেশের গুটিকয়েক মানুষ বেচে থাকলেই চলবে- বাকিরা ক্ষুধার যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে মরে গেলে কারও কিছুই করার নাই।

করোনা মহামারী প্রতিরোধে জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির উপদেশ আংশিক বাস্তবায়নের ফলে দেশের সংখ্যা গরিষ্ট মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।যার আশু সমাধান প্রয়োজন।

বিষয়টির বাস্তবতা তুলে ধরা প্রয়োজন। যে সব উপদেষ্টাগন লকডাউনের পরামর্শ সরকারকে দিচ্ছে তার পাশাপাশি ক্ষুধার্ত মানুষের কথাও বলছে। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় শুধুই লকডাউন বাস্তবায়ন হচ্ছে। সেখানে বর্নিত উপদেষ্টাদের কোন আপত্তি দেখা যায় না। উপদেশ দেওয়া হলো লকডাউন ও ক্ষুধার নিবারনের ব্যবস্থা যৌথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য, কিন্তু শুধু লকডাউন বাস্তবায়ন হওয়াতেই উপদেষ্টাগন খুশি। ক্ষুধার জগতের মানুষদের জন্য আর তাদের কোন দরদ দেখা য়ায় না। এভাবে জনগনের পয়সায় লেখা-পড়া আবার জনগনের পয়সায় গবেষনা আবার জনগনের পয়সায় উপদেষ্টা হিসেবে পক্ষপাতমূলক আচরন মানুষ দেখেতে দেখতে বর্তমানে এসব উপদেষ্টাদের প্রতি অনিহা প্রকাশ করছে।

করোনা কতদিন থাকবে বলা যাবে না। তাই দেশের মানুষের সকলের কথা চিন্তা করে যেমন উপদেশ দিতে হবে তেমনি তার পুরো অংশ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। অংশিক বাস্তবায়ন হলে বাকি অংশের বাস্তবায়ন না হওয়ার কারনে একই দেশের বিরাট অংকের মানুস ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। করোনা ছাড়াও এধরনে পক্ষপাতমূলক উপদেশ প্রদান ও বাস্তবায়ন দুটোই দেশের জন্য হুমকি। পুরো উপদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে উপদেশের প্রয়োজন নেই।

সরকার বাহাদুর তার প্রচেষ্টায় দেশের সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনার জন্য যেমন প্রচেষ্টা অবাহত রেখেছে তেমনি করোনার জন্য মাস্ক পড়া সহ অন্যান্য সচেতনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের কর্মের পরিবেশকে সচল রাখতে না পারাটা বাস্তবতা হলেও এর জন্য দেশের মানুষই কষ্ট ভোগ করছে। তাই করোনা প্রতিরোধ যেমন জরুরী তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রুজি রোজগারকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া সমান জরুরী।

আশা করা হচ্ছে উপদেষ্টাগন করোনা প্রতিরোধের পাশপাশি রুজির পথ সচল রাখা বিষয়টি বিবেচনা রেখেই সকল পরামর্শ প্রদান করবেন এবং প্রদানকৃত উপদেশের পুরোটা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা, শেখ হাসিনা দেশের সকল জনগনের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তাকে সকল দিকে থেকে সবাই সহায়তা করলেই কেবল জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দ্রুত গতিতে মানবতার মা, শেখ হাসিনা গড়তে সক্ষম হবে।

জয় বাংলা            জয় বঙ্গবন্ধু           জয় শেখ হাসিনা