ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লকডাউনের প্রভাবে উপকৃত-অউপকৃতদের হাসি-কান্না।

জুলাই 01, 2021 তারিখ থেকে কঠোর লকডাউনের ক্ষেত্রে কারও মুখে হাসি আর কারও মুখে কান্না। সমাজের এই হাসি-কান্নার জোয়ার ভাটায় করোনা তার দাপুটে ধ্বংসলিলা অবারিত রে্খেছে। সমাজের এক শ্রেনির মানুষ কঠোর লকডাউনের পক্ষে জোরালো মতামত প্রকাশ করলেও সমাজের অন্যস্তরের বিশাল সংখ্যক মানুষের মধ্যে লকডাউনের কোন প্রতিক্রিয়া নাই। যাহা সমাজকে যেমন দুইভাগে ভাগ করেছে তেমনি এবারের লকডাউনও বরাবরের মতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলছে।
লকডাউনের কথা শুনেই একদল মানুষ তাদের বাসার প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য সহ অন্যান্য দ্রব্যাদি ক্রয় করতে ব্যস্ত। সেই সুবাধে পন্য উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে ভোক্তার দ্বারপ্রান্তের দন্ডায়মান ব্যবসায়ি অধিক মুনাফা অর্জনের কৌশল বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত। অন্য এক শ্রেনির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে এ দুটোর কোনটারই প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না।
করোনার জন্য লকডাউনের বিষয়টি যাদের মনে কোন প্রভাব ফেলতে পারে নাই তাদের সংখ্যাই দেশে বেশি। তার সংখ্যা উল্লেখ না করে সরাসরি ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি চোখে ধরা পড়ে যায়। 68 হাজার গ্রামের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ করোনার লকডাউন মুখে আনতে নারাজ। ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য শহরের মানুষের মধ্যে 90% মানুষ লকডাউনের পক্ষে উদগ্রিব হতে নারাজ। তাদের চলা ফেরায় লকডাউনের কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না।
যারা লকডাউনকে অতি উৎসাহের সাথে স্বাগতম জানাল- তারা সরাসরি ঘরে। যারা লকডাউনকে স্বাগত জানাতে অপারগ হলো তারা মাঠে। মাঠে আবার করোনার সতর্কতা মাস্ক ছাড়া ও নিরাপদ দুরত্ব ছাড়া।
এবার দেখা গেল ঘরের ভিতর থেকে সরাসরি হাসপাতালে রুগি যাচ্ছে করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে। আর যারা মাঠে করোনাকে উপেক্ষা করে চলছে- তারা অবারিত।
শুরু হলো চেচামিচি- সিট খালি নাই, অক্সিজেন নাই, চিকিৎসা নাই। এই চেচামিচি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার মধ্যে সিমাবদ্ধ। মাঠের মানুষ চলছে রাজার হালে যেন করোনা নাই- কিছু শুনার বা বলারও তাদের নেই।
সরকারী চাকরের বেতন চলে, শিল্পপতির শিল্প চলে। পথে হাটে কাজের সন্ধানে ক্ষুধার্তরা। সংখ্যার দিক থেকে অবশ্যই ক্ষুধাতের্র সংখ্যা বিশাল।
দিন যায়, সপ্তাহ যায়। শ্রমিক নেতা হুংকার মারে – কাজ চাই, পরিবহন নেতা চিৎকার মারে – পরিবহন চালাতে চাই। মার্কেট নেতা দাবি করে – মার্কেট খুলতে চাই।
লকডাউনে কার ঘরে কত মুনাফা গেল তার হিসাব না করেই লকডাউন সমাপ্তির ঘোষনা।
গল্পের হয় সমাপ্তি । পেরেশানি কমে বক্তা ও চাটুকরদের। সকলে আবার মাঠে। আবার সবাই মিলে যায় মাঠের বিস্তীর্ণ জীবন যুদ্ধে।
স্কুল নাই, পরীক্ষা নাই, বেতন চাই। ভর্তী নাই, ভর্তীর আয়োজন নাই- ব্যস্ততার শেষ নাই। শিক্ষার্থী প্রযুক্তিতে আশক্তি বাড়াচ্ছে-অভিভাবক দেখে কাতরাচ্ছে। শিক্ষার কান্ডারিরা মিডিয়াতে চাপাবাজি ছড়াচ্ছে। বছর পার হয়ে আবার বছর পারের আয়োজন হলেও ভর্তীর আয়োজকদের চাপাবাজির নতুন নতুন ধারা প্রকাশ পাচ্ছে। অথচ উচ্চ শিক্ষার ভর্তীর কোনই পদক্ষেপ নাই। ইতিমধ্যে সংশ্লষ্ট উচ্চ শিক্ষায় ভর্তী প্রার্থীদের প্রায় 2টি বছর অধ্যয়ন ছাড়া অতিবাহিত হতে চলেছে।
এসবের ডামাডলে আড়াইকোটি অনিশ্চিত আয়ের পরিবারের কস্ট বাড়ল। করোনার নিম্নগতিতে মোড় নিলেও মিডিয়াতে চাপার ভবিষ্যৎ বানি বাড়ে।
চলছে সমাজ এভাবে। কতদিন চলবে? সমাজের গতি কোন দিকে যাবে? তা নিয়ে প্রশ্নের অবিতীর্ণ করে তারাই- যার ঘরে ঢুকেছিল। বাকিদের তখনও মুখ বন্ধ এখনও মুখে কুলুপ। মুখ কুলুপ দিলেও মনে মনে ভাবে হায়রে নদীর খেলারে-হায়রে নদীর খেলা। নদীর একুল ভাঙ্গে আর ওকুল গড়ে। যার সবই শুধুই আমাদের প্রতিকুলে হাটে।
যত কম সংখ্যক মানুষকেই করোনা আক্রান্ত করুক না কেন, তা রুখতে হবে দেশের সকল মানুষ একসাথে, আর যত বেশি মানুষই ক্ষুধার জালায় মাঠে আসুক না কেন, সে ক্ষুধা নিবারন করতে হবে-দেশের সকল শক্তি দিয়ে।