জুন 23, 1949 বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তনের বিষয়টি সবাই যেমন জানে তেমনি 75 পরবর্তী সময়ে ভঙ্গুর আওয়ামী লীগের সকল চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি অনেকেরই দেখা। তবে জানা ও দেখা অনেকের সমান হলেও শেখার ভিন্নতা সকল ক্ষেত্রেই যেমন দেখা যায়- শেখ হাসিনার নেতৃত্বকেও 75 পরবর্তী সময়ে যারা দেখেছে- তাদের মধ্যে শেখার ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেটা আওয়ামী বিরোধি বা আওয়ামী ঘরানার যে কোন বাংলাদেশের নাগরিকের ক্ষেত্রে বাস্তবতা।
যে সব চ্যালেঞ্জকে জয় করে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দলটিকে যেমন বাংলাদেশের সকল মানুষের কল্যানের জন্য নিয়োজিত করতে পেরেছে- তেমনি আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করাতে শেখ হাসিনাই সক্ষম হয়েছে।
চ্যালেঞ্জগুলিকে তখনকার সময় শেখ হাসিনার জন্য সাহসের সাথে মোকাবেলার লক্ষ্য হলেও দেশের অনেকের মনেই সে সম্পর্কে দ্বিধা-দ্বন্ধ ছিল-এমনকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার চ্যালঞ্জকে কঠিন বলে মনে মনে ভাবতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের প্রবাহিত ঝরনার বেগ শেখ হাসিনাকে কোন চ্যালেঞ্জকেই কঠিন হিসেবে মনে করিয়ে দেয়নি – বরং দেশ ও জাতির জন্য যা প্রয়োজন তা-বঙ্গুবন্ধুর কন্যা হিসেবে কেবলমাত্র শেখ হাসিনাকেই করতে হবে- এই বিশ্বাসে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের পুন:পত্তনের অভিযান শুরু হয়।
দেশে প্রত্যাবর্তন যেমন শেখ হাসিনার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল তেমনি দলকে গুছিয়ে শক্তিশালী করাটাও শেখ হাসিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারন 75 পরবর্তীতে দলের অধিকাংশ কর্মীকে নানাহ নির্যাতনের মাধ্যমে মনোবল ভেঙ্গে দিতে সদা ব্যস্ত ছিল- তৎকালীন সময়ের স্বাধীনতা বিরোধী দল ও সরকার।এছাড়া আওয়ামী তথা স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে বিরোধ ও সরকারি দল তথা স্বাধীনতার বিরোধি শক্তির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য তাদের দারস্ত হওয়া-ইত্যাদি বিষয়গুলি তৎকালীন সময়ে অওয়ামী লীগের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে।
যাক সকল চ্যালেঞ্জকে জয় করে শেখ হাসিনা যখন দেশের মানুষকে স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে স্বরন করাতে সক্ষম হলো – তখন তার জীবন ও তার আদর্শকে ধ্বংস করার জন্য একটি মহল তৎপর হয়ে উঠলো। যেখানে শেখ হাসিনা যাবে সেখানেই তাকে হত্যা করে তার আদর্শকে বিলুপ্ত করার জন্য বোমা বাজি শুরু করলো। সেখানে সরাসরি তৎকালীন সরকারে থাকা স্বাধীনতা বিরোধিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকলো। কিন্তু শেখ হাসিনা থামার মত পিতার কন্যা নয়। যা আজ দেশবাসিকে আশ্বস্ত করতে পেরেছে। দেশবাসি আজ বিশ্বাস করতে সক্ষম হয়েছে যে, দেশের একমাত্র নাগরিক শেখ হাসিনাই দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে। পাশাপাশি আওয়ামী ঘরনার মধ্যেও আস্তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য একমাত্র ও একমাত্রই শেখ হাসিনার নেতৃত্বই প্রয়োজন।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যে চ্যালঞ্জগুলিকে জয় করতে হয়েছে তার কিছু আলোকপাত করতেই হয়।
স্বাধীনতা বিরোধি শক্তির উথান তার মধ্যে অন্যতম। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের কবলে বাংলাদেশ, সামরিক সাশন, গনতন্ত্রের উপর আঘাত ইত্যাদি অন্যতম। এরপরে শেখ হাসিনা স্বাধিনতা যুদ্ধে অপরাধিদের বিচারের বিষয়টি সামনে এনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহন করলেন। জাতির জনক সহ জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারও শেখ হাসিনাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করলেন। সবমিলিয়ে একটা বিশাল প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে প্রথমে গনতন্ত্র উদঘাটনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলেন। তার নেতৃত্বে তথা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের সকল মানুষ সামরিক সরকাররে রুখে দিতে সক্ষম হলো। এর পরের ঘটনা বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রে শুধু অগ্রগতি আর অগ্রগতি। যার মূলে আছেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা, মানবতার মা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেত্বত্বকে বিশ্বের সকল পর্যায়ের নেতাদের মুখে শেখ হাসিনার প্রশংসার সুশিতল বাতাস বহমান।75 পরবর্তী সময়ের জন্য এমন একজন নেতা- শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল এবং শেখ হাসিনা তা পুরন করতে সক্ষম হয়ে তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ সফল।
জুন 23, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হলেও 75 পরবর্তী আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনাই নতুন জীবন প্রদান করে আজ দেশের সকল মানুষের প্রিয় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেমন পুরাতন বহুমাত্রিক কর্মী সমন্বয়ে গঠিত তেমনি আওয়ামী লীগের স্রোতে অনেকে নতুন করে গা ভাসাতে উঠেপড়ে লেগেছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগে কম-বেশি ভাল-মন্দ সকল মানুষের পদচারনা বিরাজমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কড়া নজরদারিতে আওয়ামী লীগে দেশ বিরোধি তথাকথিত কর্মীদের স্থান হচ্ছে না। দেশের দীর্ঘ দিনের অনৈতিক কর্মের মানুষগুলোকে যেমন একেদিনে ভাল করা সম্ভব হচ্ছে না তেমনি দিন দিন কিছু মানুষ আবার নতুন করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এই অনৈতিক কর্মের মানুষগুলোই শেখ হাসিনার দেশ গড়ার কাজের বড়া বাধা হয়েছে।
দেশের অগ্রগতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান নানাহ মহলে বিরাজমান। তবে একটি বিষয় দিয়ে দেশে অগ্রগতিকে বুঝানোর চেষ্টা করা যায় – তা হলো –আজকের সিংগাপুরের অবস্থানে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেত্বত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌছে যাবে। তখন বাংলাদেশ হবে বিশ্বের প্রকৃষ্ট উদাহরন- যেখানে বাংলাদেশের সকল অগ্রগতিতে শেখ হাসিনার কৌশল হবে বিশ্বে অনুকরণীয়- সে দিন অচিরেই এসে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের ইতিহাস পড়ে বিশ্মিত হবে যে, কি ভাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজকের উন্নত অবস্থানে নিয়ে আসল।
স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অবদান আর তার স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব জাতীয় পর্যায়ে যেমন ইতিহাস তেমনি আন্তজার্তিক পর্যায়ে জাতির জন্য একটি সম্মান জনক অবস্থান।
জুন 23, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরুর দিনকে সামনে রেখে জাতি বলতে চায়- ধন্য শেখ হাসিনা, ধন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ধন্য বাংলাদেশ।
জয় বংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয় শেখ হাসিনা