ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“ফিরে দেখাও” নোয়াখালী একলাশপুরের গত ২০ বছরের ধর্ষণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম!

নোয়াখালী বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নে গত ২০ বছরে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসীদের যেন এক অন্য জগত কায়েম করেছে কতিপয় অসাধু কিছু প্রভাবশালী চক্র। ওই এলাকার বাসিন্দারা সন্ত্রাসীদের হাতে প্রতিনিয়ত বন্দি। সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ এবং ইজ্জত হারাচ্ছে এলাকার জনসাধারণ। এ যেন দেখার কেউ নেই!

গত ২ সেপ্টেম্বর একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ীতে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছে স্থানীয় বখাটে একদল যুবক। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে তার ভিডিও চিত্রও ধারণ করে তারা।

এ ঘটনার ৩২দিন পর গৃহবধূকে নির্যাতনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে গেলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের।

এর আগে গত ৩২ দিন অভিযুক্ত বখাটেরা গৃহবধূর পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুরো ঘটনা থেকে যায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে।

এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার প্রভাবশালী চক্র দের ধামাচাপা দেয়া বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধ এর তথ্য পুলিশসহ গনমাধ্যমের কাছে চলে আসে। ওই এলাকার নিরীহ জনসাধারণ হাজার কষ্ট সহ্য করার পরেও মুখ খোলার সাহস পেতো না তাদের ভয়ে। এখন এক এক করে উঠে আসতে শুরু করেছে তাদের জুলুম নির্যাতনের ইতিহাস। উন্মোচন হয়ে যাচ্ছে তাদের কুৎসিত চেহারা।

একলাশপুরের ধামা চাপা পড়া কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো :

(১) ২০০১ সালে জহির, পিতা-মৃত মেহরুল্লা কেরানী, ৪ নং ওয়ার্ড রিক্সাষ্ট্যান্ট বাড়ীতে সে বিয়ের অনুষ্ঠান ও মুসলমানী অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা আদায় করে, ৪ থেকে ৫ জন মিলে ভুইয়া বাড়ীতে মা ও মেয়েকে ধর্ষণ করে। সেই মা ও মেয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে তারা আজও এলাকাতে আসে নাই।

(২) ২০০১ সালে ঈদের নামাজের পরে গরীব দীন মজুর ‘দাইয়া’ মিয়াকে লাথি মেরে ফেলেছে সকলের সামনে অথচ এই বিষয়ে থানায় কোন মামলা ও নেয় নাই।

(৩) মো: হান্নান, পিতা-কালা মিয়া,বাড়ী এখলাসপুর সংলগ্ল সোনাপুর গ্রাম। সে জোর পৃর্বক ছোট খালপাড়ের বর্তমান ঘটনার পাশ্বের বাড়ীর এক মেয়েকে তুলে নিয়ে আরেক সন্ত্রাসীর কাছে বিয়ে দিয়ে দেয়। অদ্য পর্যন্ত এলাকাতে সরকারী দলের সাথে আতাঁত করে চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী, ধর্ষণ করেই যাচ্ছে। যা পর্দার অন্তরালে রয়েই যাচ্ছে।

(৪) হৃদয়, পিতা-আ: রহিম, সে থাকে এখলাসপুর ভিআইপি রোডে। অত্র এলাকাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ইপটিজিং, ধর্ষণ করেই যাচ্ছে। গত কিছু দিন পৃর্বে ১,৭৫০০০ হাজার টাকা ও ইয়াবা সহ বেগমগঞ্জ পুলিসের হাতে ধরা পরে। আবার ছাড়া ও পেয়ে যায়। সে জেল থেকে এসে পৃর্বের কার্যক্রমের সাথে আবার জড়িয়ে পড়েছে। দোলোয়ার, জহির, হান্নান, হৃদয় একই সূত্রে গাঁথা।

(৫) গত ৪/৫ মাস পৃর্বে ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত দারুল খায়ের আমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক একই এলাকার শিশু বলৎকার হয়। এই ঘটনাইয় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক টাকার বিনিয়ম ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এখনও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও বলৎকার করা সেই শিক্ষকও কর্মরত রয়েছেন।যা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কে জিজ্ঞাসা করলেই সব তথ্য বের হয়ে আসবে। এইতো অপকর্ম করেও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা।

জনসাধারণের সাথে ঘটে যাওয়া এতসব ঘটনা দেখেও যেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। বিচার না পেয়ে শুধু নিরবে কাঁদছে ভুক্তভোগী পরিবাররা।

এসব বিষয়ে একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের কাছে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।

এই সকল ঘটনা গুলো তদন্ত পৃর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন। সূত্র: জনতার আলো