বিরোধী দলের অস্তিত্বের জানান দিতেই কর্মসূচি
সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিকে নানা মহলে বলাবলি হচ্ছিল বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সেই জাতীয় পার্টির পথেই হাঁটছে। তারাও কি সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দলের তকমা পেতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন আলোচনা-সমালোচনা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু সংসদের বাইরে জামায়াতের সাম্প্রতিক চিত্র সেই সন্দেহের অবকাশকে উড়িয়ে দিচ্ছে। রাজনীতির মাঠে শক্ত বিরোধী হিসেবে নিজেদের আবির্ভূত করতে যাচ্ছে। শনিবারের ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ তারই বার্তা বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন জামায়াত নেতারা।
বিএনপি সরকার এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে শেষ হলো লংমার্চের মতো বড় কর্মসূচি। সরকার গঠনের এই কয়েক মাসের মাথায় এত দ্রুত জামায়াত লংমার্চ ডেকে অনেককে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নিজেদের প্রথম লংমার্চ কর্মসূচিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জনসভা ও পথসভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের ‘এক দফার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ‘বাধ্য’ করবেন— এমন অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন এসব সমাবেশে।
এই কর্মসূচিতে ‘গণভোটের রায়’ বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে হওয়া গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লংমার্চের আয়োজন করেছিল বিরোধী এই জোট।
১১ দলীয় ঐক্য জোটের দাবিগুলো হলো— গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের লালদীঘির সমাবেশে শনিবার রাতে বলেছেন, এ আন্দোলন জনগণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। লংমার্চ ‘সরকারকে সতর্ক করার জন্য’ এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাকিগুলো এমন হবে না। আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা চেয়েছিলাম সংসদে ফয়সালা হবে’।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, বিরোধী দল হিসেবে সাংগঠনিক অবস্থান, সংসদের বাইরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই এতবড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তারা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সহসাই জামায়াত কোনো ফলাফল না দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি অর্জন পাওয়ার আশা আছে।
প্রথমত তারা সরকারকে সতর্ক করেছেন যে তাদের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির অংশীজনরা আছেন। জুলাই প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিসহ অন্য ছোটবড় ইসলামী দলগুলোকে একত্র করতে পেরেছে। লংমার্চের মাধ্যমে সরকারবিরোধী অবস্থান পাকাপোক্ত হয়েছে।
তারা বলছেন, বিরোধী দলের আন্দোলন সংসদ ও সংসদের বাইরে উভয় জায়গায় সরব হবে। সংসদে প্রতিবাদ ও ওয়াক আউটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া হচ্ছে। এখন তারা রাজপথেও সরব উপস্থিতি ঘটিয়ে সোচ্চার হবে।
নেতারা বলছেন, সামনে স্থানীয় নির্বাচন বড় একটি ফ্যাক্টর। সরকার সেখানে যাতে দলীয়করণ না করে অর্থাৎ পক্ষপাতমূলক নির্বাচন করতে না পারে, সেজন্য আগেভাগে সরকাকে সতর্ক করা হবে। এ ছাড়া লংমার্চ বা অন্য কর্মসূচির মাধ্য নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান সুদৃঢ় হবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় নির্বাচনে। দলটি চাচ্ছে স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ও সন্তোষজনক একটি অবস্থানে যেতে।