ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য পুন:পেনশন বাস্তবায়ন:
মানবতার মা, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনার অন্যতম শ্লোগান- “ উন্নয়ন তবে কাউকে বাদ দিয়ে নয়”। সার্বিক উন্নয়নের এই বাস্তবধর্মী শ্লোগান বাস্তবায়ন করতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে এই শ্লোগানের মর্ম স্পর্শ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে- যাতে করে সকলের প্রচষ্টায় সকলকে নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠা যায়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপরে বর্নিত শ্লোগান বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য কর্মসূচীর পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচী ঘোষনা করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সবার জন্য বাড়ি, সবার জন্য খাদ্য, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সবার জন্য চিকিৎসা ইত্যাদি কর্মসূচীর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজের সকলকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। তারই ধারা বাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরকারি কর্মচারি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পুন:পেনশন ঘোষনা করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও তাদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারিদের জন্য ইতিমধ্যে পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মীসূচীকে টেকসই করতে সহায়তা করছে। যার সুবাধে একসময় দেশের সকল মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
কিন্তু, আমরা যারা গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে অসময়ে অবসরে যেতে বাধ্য হয়ে আজ কোন রকম সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা ছাড়া মানবেতর জীবন যাপন করছি- তাদের জন্য সরকারি বা অন্য কোন পর্যায় থেকে আমাদেরকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মীসূচীর আওতায় আনা হয়নি।
সেক্ষেত্রে আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকারিগন দেশের কোনরকম সামাজিক সুরক্ষা ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর জীবন যাপন করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের এ ধরনের অবসরপ্রাপ্তদের সংখ্যা 12 হাজারের বেশি। প্রতিবছর এসংখ্যা বেড়েই চলেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকে থেকে অবসরকারিদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশনের জন্য দীর্ঘদিন যাবত আমার 12 হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের সামাজিক অরক্ষিতের বিষয়টি সরকার সহ দেশের সকল স্তরের মানুষদের অবহিত করেছি। গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডকেও বিয়টি অবহিত করেছি। সরকারের সকল মহলেই আমাদের 12 অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর সামাজিক সুরক্ষার জন্য গ্রামীণ ব্যাংককে পুন:পেনশন বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদানের জন্য আমরা আবেদন -নিবেদন করে আসাছি।
কিন্তু দু:খের বিষয় হলো- দেশের সকল স্তরের মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার জন্য নানাহ সুবিধার আওতায় সরকার আনলেও আমাদের গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অবসররে যেতে বাধ্য হওয়া 12 হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য কোন কিছু তো করাই হয়নি -বরং গ্রামীণ ব্যাংককে পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করে বর্নিত 12 হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদৈর সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার জন্য কোন পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংকে পুন:পেন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা না হলে- বর্নিত 12 হাজার মানুষ ও তাদের পরিবার দেশের সামাজিক সুরক্ষার বাহিরে থাকবে- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান -“ উন্নয়ন তবে কাউকে বাদ দিয়ে নয়” বাধাগ্রস্থ হবে।
সেক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অবসরপ্রাপ্ত 12 হাজার কর্মীর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করে দেশের উন্নয়নের মহাসড়কে সবাইকে আনার ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।