ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আমদানিকারকের তথ্য ছাড়া বিদেশি পণ্য বিক্রি করা যাবে না

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, ভোক্তা অধিকার আইনে তিন ধরনের ব্যবস্থা আছে। বাজার অভিযানে জরিমানার সঙ্গে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করারও বিধান আছে। তবে এ ধরনের মামলা করতে মহাপরিচালকের অনুমোদন লাগে বলে করা হয় না। কিন্তু আমার আজকের বক্তব্য স্পষ্ট, বড় বড় অপরাধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। আমদানিকারকের তথ্য ছাড়া কোনোভাবেই কোনো বিদেশি পণ্য বিক্রি করা যাবে না।

রোববার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের অডিটোরিয়ামে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সেবা প্রদান বিষয়ক গণশুনানি’তে তিনি এ কথা বলেন।

গণশুনানিতে এক ভোক্তা বলেন, ‘আমরা ৬০ ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা, সেখানে ২৫ থেকে ৩০ ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছি। কিন্তু আমি ঠিকই ১ হাজার ৮০ টাকা বিল দিচ্ছি। শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য আমরা ডিমান্ড চার্জ দিচ্ছি। কিন্তু আমি তো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডিসহ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। ২০০৯ সালের ভোক্তা আইনের একটা জায়গা পরিষ্কার না, তা নিয়ে কাজ চলছে। আইন সংশোধন করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলেই আমরা তা আমলে নেই। গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় তিতাস গ্যাসকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৩৩০ টাকার গ্যাস ১ হাজার ৮৫ টাকা করা হয়েছে। তারপরও ঠিকমতো গ্যাস মেলে না, এটা হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। তবে গত ছয়-আট মাসে তাদের ভেতরে ঢুকেছি, তাদের অনিয়ম ধরা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও ধরা হচ্ছে। গুলশান, বনানীর বিভিন্ন শোরুমে আমদানিকারকের নাম ঠিকানা ছাড়া গুঁড়া দুধসহ বিভিন্ন কসমেটিক পাওয়া যাচ্ছে। এত বেশি পণ্য লাগেজে আসে না, এগুলো নকল। তাই আমদানিকারকের নাম, ঠিকানা ও এমআরপি ছাড়া কোনো পণ্য বিক্রি করা যাবে না।

কুরিয়ার ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহাপরিচালক বলেন, আমের ভরা মৌসুমে ভোক্তাদের ঠিক সময়ে আম দেওয়া হয়নি। তাই আইনের মধ্যে থেকেই জরিমানা করা হয়েছে।

আরেক ভোক্তা বলেন, জীবন বাঁচানোর ফি এত বেশি কেন? দফায় দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায় কার?

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, টেস্টের ফি ও ডাক্তারের ফি কত হবে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা। কিন্তু যদি নির্ধারিত না হয় তাহলে তা বাজার অর্থনীতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। ডাক্তার যত নেবেন, আপনাকে তত দিতে হবে।

গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম প্রমুখ।