ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত সেনা সদস্য শরীফুলের দাফন সম্পন্ন

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে বোমা বিস্ফোরণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য শরীফুল ইসলামের দাফন শনিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির নিজ গ্রাম পৌর এলাকার বেড়াখারুয়া কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শরীফুলের লাশ সেনা বাহিনীর অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বেড়াখারুয়া শরীফুলের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেনা সদস্যদের কাছ থেকে সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা মোড়ানো কফিনে লাশ গ্রহণ করেন শরীফুলের বাবা লেবু শেখ। এ সময় লাশ দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এসময় তার মা, স্ত্রী, ছোট বোন ও ভাই ছাড়াও অনন্য স্বজনসহ গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৩টায় নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেলকুচি পৌরসভার বেড়াখারুয়া কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন, বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুল, ভাইচ চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী শেখ, পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা, সাবেক ভাইচ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম সোহেল, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম রেজা, বেলকুচির সাবেক সেনা সদস্যরা সহ শরীফুলের বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

প্রসঙ্গত, তিন ভাই-বোনের মধ্যে শরিফ ছিলেন সবার বড়। বেলকুচি উপজেলার আলহাজ সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর গত ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন শরীফ। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসংঘে মিশনে যান তিনি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন (ব্যান ব্যাট-৮) ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শান্তিক্ষায় নিয়োজিত থাকেন।

গত ৩ অক্টোবর দুর্গম এলাকায় মোতায়েন অন্যতম অস্থায়ী ক্যাম্প কুই থেকে পরিচালিত যান্ত্রিক টহলের একটি দল মেজর আশরাফের নেতৃত্বে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কাইতা এলাকায় টহলে যায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ফেরার পথে টহল কমান্ডার মেজর আশরাফকে বহনকারী প্রথম গাড়িটি মাটিতে পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে পতিত হয়। এতে গাড়িটি প্রায় ১৫ ফুট দূরত্বে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই সৈনিক শরিফ, সৈনিক জাহাঙ্গীর ও সৈনিক জসিম মারাত্মকভাবে আহত হন। জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৪৪ কিলোমিটার দূরে বোয়ারে মিনুসকা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।