ঢাকা, শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ কর্মী রাকিবের লাশ নিয়ে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

আধিপত্যের লড়াই ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে খুন হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী রাকিব হাসানের লাশ নিয়ে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন শেষে রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় নিহতের লাশ নিয়ে মিছিল করে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নবাসী।

 

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইলের গাউসিয়া এলাকায় খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। পরে মানববন্ধন শেষে তারা একটি মিছিল নিয়ে ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

মানববন্ধনে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত রাকিবের পরিবার ও এলাকাবাসী বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, দ্রুত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি হাট-বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে রাকিবকে কুপিয়ে হত্যা করেছে শ্রমিকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ও তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী। রাকিবের অপরাধ কি ছিল? মাদক ব্যবসা ও পরিবহনে চাঁদাবাজীতে সে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছিল। এই অপরাধে তাকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তারা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রাকিবের হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আন্দলোন সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন এলাকাবাসী। ওই সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনীর কাছে আর জিম্মি থাকতে চায় না গোলাকান্দাইলবাসী। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন শ্রমিকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, তার সহযোগী সজিব, মিল্লাত, ইলিয়াস ও সোহেলসহ আরও অন্তত ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসীদল। এদের সকলকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জোড় দাবি জানায় নিহতের পরিবার ও স্বজনেরা।

ওই ঘটনায় নিহত রাকিবের বোন আঁখি আক্তার বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ।

তিনি

বলেন, রাকিবের লাশ নিয়ে তারা বিচারের দাবিতে সড়কে মিছিল করেছে। পরে তারা ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে অবস্থান নেয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দেয়। সন্ধ্যায় রাকিবের মরদেহ দাফন করে পরিবার।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার গোলাকান্দাইল হাট-বাজারের কাঠপট্টিতে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসীরা রাকিবের ওপর হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে রাকিব গুরুতর জখম হয়। অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাকিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাকিব গোলাকান্দাইল এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে। নিহত রাকিব প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের সহিংসতার বলি হয়েছন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।