ঢাকা, শনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আখ চাষের টেকসই মডেল প্রকল্প পরিদর্শন

বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের চিনি শিল্পকে লাভজনক করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) এর সময়োপযোগী দিক নির্দেশনায় গত বছর বিএটি বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আখের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি টেকসই মডেল প্রকল্প নেয়।

বিএটি বাংলাদেশ ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে একরপ্রতি ১৯ মেট্রিক টন আখের ফলনের পরিবর্তে দ্বিগুণ ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ টেকসই মডেলের কাজ শুরু করে। মডেল প্রকল্পের আওতায় কেরু অ্যান্ড কোং সুগার মিল, মোবারকগঞ্জ সুগার মিল, জয়পুরহাট সুগার মিল, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ও নাটোর সুগার মিলের আওতাধীন মোট ৩০ একর জমি চাষিদের মাধ্যমে বর্গা নিয়ে উত্তম কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে আখের আবাদ শুরু করা হয়।

এ মডেল প্রকল্পের আওতায় চাষিরা আধুনিক পদ্ধতিতে জমি তৈরি, বীজ সংগ্রহ, ভালো বীজ বাছাইকরণ, পরিমিত সার প্রয়োগ ও চারা রোপণ করা বিষয়ক সম্যক ধারণা লাভ করেন। এর পাশাপাশি চাষিরা বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ, জমির আগাছা নিধন, ঝাড় বাধা, সঠিকমাত্রায় সার ও কীটনাশকের প্রয়োগের বিষয়ে সময়মতো নির্দেশনা লাভ করেন।

এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুরো মৌসুমব্যাপী কৃষি প্রশিক্ষণ, ওয়েব ভিত্তিক বার্তা প্রেরণের (বন্ধুসেবা) মাধ্যমে এ প্রকল্প পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ফলনের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত করতে পেরেছে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান অপু, বিএটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গোলাম মইন উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ মডেল প্ৰকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

তারা এ সময় স্থানীয় চাষি, মিল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে আখের এ নতুন সম্ভাবনাময় উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, আখের জাত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন আখ উৎপাদনে সহায়তা এবং উদ্বুদ্ধকরণে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সঙ্গে বিএটি বাংলাদেশ একযোগে কাজ করে চলেছে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়েছি, যার মধ্যে এ টেকসই মডেল প্রকল্প অন্যতম। এ ধরনের উদ্যোগ দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের প্রান্তিক চাষি আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হবে এবং ফলস্বরূপ চিনি কলগুলোতে পুনরায় গতির সঞ্চার হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান অপু বলেন, চিনির ওপর আমদানি নির্ভরতা কমাতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিএটি বাংলাদেশের মাধ্যমে করা এ প্রকল্পে আমরা যে সফলতা পেয়েছি, তা আমরা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই, যাতে করে তারা সামনের দিনগুলোতে আখ চাষে আরও উদ্বুদ্ধ হয়।

বিএটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গোলাম মইন উদ্দিন এ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, এ অঞ্চলে ১১২ বছর ধরে আমরা ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছি। আমাদের উত্তম কৃষি পদ্ধতির ব্যবহারে আমরা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছি যা অত্যন্ত গর্বের। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসএফআইসিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের এ রকম একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।