ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে পারিবারিক বিরোধ টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ফেনীর দাগনভূঁঞায় আলাউদ্দিনের কাছে ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন টাকার হিসেবে চাইলে টাকা আত্মসাত করার জন্য নানা কুটকৌশলের আশ্রয় নিতে থাকে। শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে রুমা আক্তার এসব কথা জানান। রুমা আক্তার বলেন, আমার ভাসুর আলাউদ্দিন গংদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি আমার স্বামী ও বসত ভিটা বাচাঁতে অত্যান্ত নিরুপায় হয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমার স্বামী শিহাব উদ্দিন প্রবাসী ছিল। প্রবাস থাকাকালীন সময় আমার স্বামী তার বড় ভাই আলাউদ্দিনকে তার আয়ের সমস্ত টাকা পয়সা পাঠাতো। আমার স্বামী তার পৈত্রিক বসত ভিটায় ১.৫ শতক জমির মালিক হয়। এছাড়াও তার দুই ভাই গিয়াস উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিন থেকে তাদের অংশের ৩ শতক ভূমিক্রয় করে সেখানে পাকা দালান নির্মাণ করে। আমার স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন আলাউদ্দিন তা দেখাশুনা করে। এছাড়াও আমার স্বামী ঢাকায় জমি কেনার জন্য আমার ভাসুর আলাউদ্দিনকে ৬০ লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু সেই টাকায় সে কোন জমি না কিনে পুরো টাকাই আত্মসাত করে। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী ২০১৮ সালে দেশে এসে আলাউদ্দিনের কাছে টাকার হিসাব চাইলে সে আমার স্বামীর টাকা আত্মসাত করার জন্য নানা কুটকৌশলের আশ্রয় নিতে থাকে। প্রথমে সে আমার স্বামীর ঘরে জায়গা পাবে দাবী করে। পরবর্তীতে আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নালিশ দিলে সবকিছু শুনে নুর নবী চেয়ারম্যানসহ গ্রাম্য আদালত আমার স্বামীকে ২৭ লাখ টাকা আলাউদ্দিন দিবে বলে একটি রায় প্রদান করে। সে টাকা না দিয়ে সে বিদেশ চলে যায়। এতেও সে ক্ষান্ত হয়নি আমার স্বামী ও সে একই দেশে থাকায় যাতে আমার স্বামী বিদেশ না যেতে পারে সেজন্য তার স্ত্রী কহিনুর আক্তার বাদী হয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির মামলা করে। মামলায় জেলে থাকার কারণে আমার স্বামীর ভিসা বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে টাকা দেয়ার ভয়ে আমার ভাসুর দেশে আসেনি। এরি মধ্যে তারা আমাদের বসত ভিটায় জায়াগা পাবে দাবী করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি ১৪৫ ধারা মামালা করে। বর্তমানে মামলাটি স্বাক্ষী শেষে শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি ডিবি পুলিশকে হাত করে আমার স্বামীকে ইয়াবা মামলায় দিয়ে দিয়ে জেলে প্রেরন করে। রুমা আরো বলেন, আমার স্বামী জেলে যাওয়ার পর আমার ভাসুর আলা উদ্দিন দেশে আসে। তিনি আলাউদ্দিন তার স্ত্রী নিয়ে একই ইউনিয়নের নারায়নপুরে শশুরের বাডিতে বসবার করে। আমার স্বামী জেলে থাকার সুবাদে আলা উদ্দিন আমাদেরকে ঘর থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বেপরোয়া উঠে পড়ে লেগেছে। ২২ জুলাই আমি সিলোনিয়াতে ভাগিনার বিয়ে উপলক্ষে বোনের বাড়িতে ছিলাম। এই সুযোগে আলাউদ্দিন বার ভাই মুসা মিয়া ও নিজাম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে আমার ঘরের কলাপসিবল গেইটের ৮টি তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে বিভিন্ন রুমের দরজা ভেঙে টেলিভিশন, ফ্রিজ, সিসি ক্যামেরা, আলমিরা কমেন্ট বেসিনসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র ভাংছুর ও লুটপাট করে। পরে আমি খবর পেয়ে বাড়িতে এলে তারা আমার এবং আমার মেয়ে নাজলার উপর হামলা চালায়। পরে আমি ৯৯৯ এ ফোন করে ফোন করলে পুলিশ আসে, তারা আমাদেরকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় দাগনভূঞা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।