ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শেখ কামালের জীবন হোক তারুণ্যের পথের দিশা: প্রধানমন্ত্রী

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল যে নীতি,আদর্শ ও চলার পথের দিক দিশা দিয়ে গেছেন, শিশু থেকে যুব সমাজ তা অনুসরণ করে নিজেদের গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকীতে শুক্রবার সকালে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই প্রত্যাশার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

নিজেদের মেধা ও মননের বিকাশের মধ্য দিয়ে দেশের পাশপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে দেশের কিশোর ও তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি, আদর্শ ও চলার পথের দিক নির্দেশনা রেখে গেছেন, নিঃসন্দেহে আমি মনে করি যে আমাদের ছোট শিশু থেকে যুব সমাজ, তারা তাদের চলার পথ কামালের এই আদর্শকে সামনে রেখে অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।

“আমরা শুধু নিজের দেশের জন্য না, বিশ্ব পর্যায়েও যেন, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন আমরা আমাদের যে মেধা, মনন তা বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদাটাকে আরো উন্নত করতে পারি, সেইভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ করবে, সেটাই আমি চাই।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তার ছোট ভাই শেখ কামালের ‘বহুমুখী প্রতিভা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং নিরহংকারী চরিত্রের কথা’ তুলে ধরেন।

“আজকে কামালের জন্মদিন।…একাধারে সে হকি খেলত, ফুটবল খেলত, ক্রিকেট খেলত। আবার সেতার বাজাত। ভালো গান গাইতে পারত। নাটকে অংশ গ্রহণ করত। তার অনেক নাটক করা আছে। উপস্থিত বক্তৃতায় সে সব সময় পুরস্কার পেত।”

পাশপাশি কামাল রাজনৈতিকভাবেও সচেতন ছিলেন জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “শাহিন স্কুল থেকে পাস করে যখন ঢাকা কলেজে পড়ত, তখন থেকে সে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। আমরা সংগঠন করতাম, কখনো কোন পদ নিয়ে আমাদের চিন্তা ছিল না।

“আমার বাবা শিখিয়েছে মানুষের জন্য রাজনীতি করা। তার আদর্শ নিয়ে আমরা পথ চলতাম। তিনিই আমদের শিখিয়েছিলেন সাদাসিধে জীবন যাপন করতে হবে।… সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং। এটাই ছিল আমাদের মোটো। এটাই আমাদের শিখিয়েছিলেন এবং আমরা সেটাই করতাম।”

ভাইয়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তার পোশাক পরিচ্ছদ, জীবনযাত্রা খুবই সীমিত ছিল। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে তার কোনো অহংকার ছিল না।”

একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে শেখ কামালের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে, সেই কথা মেনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত হচ্ছিল, শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে কাজ করছিল।

“ …কামাল ধানমণ্ডি ১৯ নম্বর রোড, আবাহনী ক্লাব এলাকা ও সাত মসজিদ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার যুব সমাজকে নিয়ে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতেন ও কাজ করত।”

১৯৪৯ সালের ৫ অগাস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণকরেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসাবে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেরও সদস্য ছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধেরপ্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ কামাল।

স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ভর্তি হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান।

ঘাতকের গুলিতে নিহত হওয়ার সময় শেখ কামালের বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই ঘটনার মাত্র এক মাস আগে অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। ১৫ অগাস্ট সুলতানাকেও হত্যা করে ঘাতকেরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কামাল এবং খুনি নূর (বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরী) একই সাথে ওসমানির (জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী) এডিসি ছিল। নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস, এই নূরই প্রথম আসে। কারণ কর্নেল ফারুকের নেতৃত্বে যে গ্রুপটা আমাদের ৩২ নম্বরের বাড়ি আক্রমণ করে, সেখানে কর্নেল নুরুল হুদা এরা প্রবেশ করেছিল।

“কামাল মনে হয় ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিল তাকে দেখে। ভেবেছিল বোধ হয় তারা উদ্ধার করতে এসেছে। কিন্তু তারা যে ঘাতক, সেটা বোধহয় জানত না। কারণ প্রথম তারা কামালকে গুলি করে। তারপর একে একে পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে।”

প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে খেলাধুলার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। দেশের কিশোর ও তরুণরা যেন খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হয়, সেজন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেসব কথাও বলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২২ সালে সাতটি ক্যাটাগরিতে নয়জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার দেওয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।

হারুনুর রশিদকে আজীবন সম্মাননা; সংগঠক হিসেবে ভূমিকার জন্য সাইদুর রহমান প্যাটেল ও নাজমা শামীম; ক্রীড়াবিদ ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটার লিটন দাস; শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী এবং ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরা; উদীয়মান ক্রীড়াবিদ ক্যাটাগরিতে আর্চার দিয়া সিদ্দিকী ও ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম, পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রীন ডেলটা ইনসুরেন্স, ক্রীড়া সাংবাদিকতায় কাশীনাথ বসাক, এবং ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবার পুরস্কার পেয়েছে।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এ অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ বক্তব্য রাখেন।