ঢাকা, রবিবার, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ব্যাংকিং: সেন্ড মানি ফ্রিসহ সার্ভিস চার্জ কমানোর দাবি

আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) সার্ভিস চার্জ হাজারে ১০ টাকা এবং সেন্ড মানি ফ্রি করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তন হলে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকের প্রত্যাশা শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতির গতি চলমান রাখতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এমএফএস সবচাইতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত লেনদেন, ই-কমার্স পেমেন্ট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়ঃনিস্কাশন, ট্যাক্স প্রদানসহ অন্যান্য সকল সেবার বিল পরিশোধের পাশাপাশি পবিত্র মাহে রমজানের জাকাত প্রদান এমনকি ঈদ সালামি প্রদানেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা। এই সেবায় দৈনিক লেনদেন হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।তিনি আরও বলেন, এখনো এ সেবার সামর্থ্যের ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে না। অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ মানুষ কোন ধরণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে রয়েছে। এমএফএস সেবায় নিবন্ধিত হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি গ্রাহক। তবে সক্রিয় লেনদেনকারী সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা ৭০ শতাংশ। দেশে বর্তমানে ১৫টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান একমাত্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এ সেবার সঠিক ব্যবহার বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে জিডিপির অগ্রগতি যেমন একদিকে হবে তেমনিভাবে কর্মসংস্থানও বাড়বে। এ সেবার অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে এর গলাকাটা উচ্চ সার্ভিস চার্জ। আমরা এই সেবা চালুর পর থেকেই এই সার্ভিস চার্জ কমানোর জন্য বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে আবেদন করেছি। যদিও সরকারিভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্ভিস চার্জ কমানোর কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। তবে বাজার প্রতিযোগিতা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অংশিদারিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ কিছুটা হলেও সার্ভিস চার্জ কমিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আশা রাখি আগামী দিনে এই প্রতিযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকলে গ্রাহকেরা খুব দ্রুতই এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে আমাদের কিছু দাবি দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই। এর মধ্যে আছে- বর্তমান সার্ভিস চার্জ কমিয়ে এক অংকে নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ প্রতি হাজারে ভ্যাট-ট্যাক্স খরচসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিটিয়েও হাজারে ১০ টাকা চার্জ গ্রাহক প্রতি ধার্য করতে হবে, বর্তমান কর হার পরিবর্তন করে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে, সেন্ড মানি চার্জ সকল অপারেটরকে শূন্য (০) টাকায় নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ সেন্ড মানি ফ্রি করতে হবে। দৈনিক লেনদেনের পরেও অপারেটরদের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সঞ্চিত থাকে। এই টাকা অপারেটরেরা কলমানি মার্কেটে বিনিয়োগ করলেও সেই বিনিয়োগের লভ্যাংশ গ্রাহকেরা পায় না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থের ওপর লাভ প্রদান করতে হবে। দুই-একটি প্রতিষ্ঠান কিঞ্চিৎ পরিমাণ লাভ দিয়ে থাকে, আমরা চাই আসন্ন বাজেটে এই বিনিয়োগ ও গ্রাহকের লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। অপারেটরদের কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনতে হবে। বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি। ভ্যাটসহ কোন সেবার চার্জ কত টাকা কাটা হয়েছে, তা প্রতি লেনদেনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে জানানোর কথা থাকলেও দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে তা জানায় না। এ ধরণের নির্দেশনার অমান্যের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যায়। সেই নির্দেশনা আসন্ন বাজেটে থাকা জরুরি বলে আমরা মনে করি। এমএফএস সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগকারী কারা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ কত তা বাজেটে স্পষ্ট উপস্থাপন করতে হবে এবং আন্ত লেনদেনের চার্জ শূন্যে (০) নামিয়ে আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টেক্সেস বার এসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট রাশেদুল হাসান, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক, আয়কর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাহেদা বেগম, আইন বিশেষজ্ঞ ড. আলহাজ্ব শরীফ সাকী, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য সাব্বির আহমেদ হাজরা, সাধারণ নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব মোঃ কবির আহমেদ প্রমুখ।