ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বস্তি ফিরেছে পর্তুগালে

পর্তুগাল থেকে: স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে পর্তুগাল। সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশটিতে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন।পর্তুগালে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমতে থাকায় লকডাউনে কড়াকড়ি শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

লকডাউন শিথিল করার প্রথম দিনেই সরব হয়ে উঠছে পর্তুগাল।  পানশালা, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফের চালু হচ্ছে। প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে ব্যস্ত নগর লিসবনসহ পুরো পর্তুগাল। লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনেই শহরবাসীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ব্যস্ততম রাস্তা, পার্ক, সমুদ্র সৈকতসহ খোলামেলা সব।

যেখানে গত কয়েকদিন আগেও হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর দীর্ঘ লাইন, কিছু কিছু হাসপাতালে মারাত্মক অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছিল। বিপুল সংখ্যক লোক আইসিইউতে থাকায় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের সংকুলানও হচ্ছিল না। কিন্তু মাত্র ক’দিনে করোনা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশটি। বর্তমানে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশ্বের কাছে মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে পর্তুগাল।

পর্যটন নির্ভর দেশ পর্তুগালের পর্যটনমন্ত্রী রিতা মার্কেস আশা করছেন, মে মাসের প্রথম দিকেই পর্তুগালের পর্যটনশিল্প পুরোপুরি প্রাণ ফিরে পাবে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ উপায়ে পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়া হবে।

পর্যটনমন্ত্রী রিতা মার্কেস নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণে যা যা প্রয়োজন, সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে পর্তুগাল।

এদিকে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই সব নাগরিককে, যারা সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ মানতে গিয়ে কষ্ট করেছেন। যার ফলে বিশ্ব যেখানে নতুন করে লকডাউন দিচ্ছে, সেখানে আমরা স্বাভাবিক জীবনের দিকে ফিরে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য গৌরবের।

প্রায় কোটি জনসংখ্যার দেশ পর্তুগালে ৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন এবং ২৮০ জন করোনায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন, যা বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।