ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা মাহামারি সামাল দিতে ও দেশের চলমান চিকিৎসা সেবাকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌছাতে কম পক্ষে 15 হাজারের শিক্ষার্থীকে এবছর এমবিবিএস অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে হবে।

অদ্য এপ্রিল 02, 2021 তারিখে এমবিবিএস প্রথমে বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হলো। লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করেছে। সেখানে মাত্র 5 সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এই পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবায় অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। এর মধ্যে কোটার মাধ্যমে হাজার খানেকের বেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ প্রদান করা হবে। অবশিষ্ট চার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী তাদের মেধার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চিকিৎসেবায় অধ্যয়নের সুযোগ পাবে।উল্লেখ্য যে এবছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী জিপিএ 5.0 পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।সেক্ষেত্রে 10/15 হাজার শিক্ষার্থীকে উক্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করলেও যোগ্য শিক্ষার্থীর অভাব হবে না।

বাংলাদেশে বর্তমানে 18 কোটির বেশি মানুষ বসবাস করছে বলে অনেকেই ধারনা করছে।যেখানে সরকারের উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য প্রচেষ্টার ঘাটতি নেই। সরকার বেসরকারিভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদানেরও সহায়তা করে আসছে। কিন্তু সকল প্রচেষ্টার ফল চিকিৎসা সেবার তেমন কোন অগ্রগতি করতে পারে নাই- অর্থাৎ উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে খুবই কম সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।

ডাবলিউএইচও-এর ২৩ শে জুলাই, ২০২০ প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে বর্তমানে 10,000 জনসংখ্যার বিপরীতে মাত্র 5.26 জন ডাক্তার, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে নীচ থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

গ্রামীণ ও শহুরে উভয় অঞ্চলে বাংলাদেশের একটি ভাল স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক রয়েছে। সরকারীভাবে ৩,৯76টি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র এবং বেসরকারীভাবে 975টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে সামগ্রিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেশের খুবই কম মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব হয়েছে-যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কানাডার সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এপিডেমিওলজিকাল ট্রেনিং (সিআইইটি) দ্বারা প্রাপ্ত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে চিকিত্সা-সন্ধানকারীদের ১৩% সরকারী পরিষেবা ব্যবহার করে,  27% বেসরকারী / এনজিও পরিষেবা ব্যবহার করে এবং 6০% অযোগ্য সেবা গ্রহন করে ।  অন্যদিকে, চাহিদার অসম বন্টন কয়েকটি স্বনামধন্য পাবলিক হাসপাতালের উপর নিয়ন্ত্রণহীন চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার দক্ষতা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে পাবলিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামগ্রিক রোগীর বোঝা অন্যান্য সাধারণ হাসপাতালের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি। বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের (এমওএইচএফডাবলিউ) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট (এইচইইউ) দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে চিকিত্সক ও নার্সদের অপ্রতুলতা, তাদের আচরণ ও আচরণ, ঔষধের অভাব, অপেক্ষার সময়, ভ্রমণের সময় , ইত্যাদি সরকারী হাসপাতালের কম ব্যবহারে অবদান রাখে।

দেশের জনসংখ্যার তুলনায় এমবিবিএস চিকিৎসকের অপ্রতুলতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য সরকার নানাহ পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছে। কিন্তু আশারূপ ফল এখনো লাভ করা যায়নি। উপরে বর্নিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এবছর এমবিবিএস অধ্যয়নের সুযোগ প্রদানের পরও এক্ষেত্রে সামান্য পরিমানও ঘাটতি পুরন হবে না। বরং জন্যসংখ্যার বৃদ্ধির হিসাবে আরও এমবিবিএস চিকিৎসকের ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া বিশ্বে করোনা মহামারি যে ভাবে মানুষকে আতংক করে তুলেছে- সেক্ষেত্রে এমবিবিএস ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা আজ বাংলাদেশের জন্য চিকিৎসা খাতে অন্যতম কাজ। কিন্তু এ বছরও এমবিবিএস অধ্যয়নের জন্য আশানুরূপ সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না।

চিকিৎসা খাতে সরকারের যথেষ্ট নজর থাকার পরও এমবিবিএস অধ্যয়নে এত কম সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়াকে গ্রহনযেগ্য মনে করছে না বিজ্ঞ মহল।

করোনা মহামারির প্রদুর্ভাব ও চলমান এমবিবিএস চিকিৎসকের ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনা করলে- অবশ্যই সরকারকে এবছর আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এমবিবিএস অধ্যয়নের সুযোগ করে দেওয়া উচিত বলে বিজ্ঞ মহল মনে করছে।

চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা দেশের উপযুক্ত চিকিৎসক গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এ পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে হবে বলে মনে করছে। সেক্ষেত্রে এবছর এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে এবছর কম পক্ষে 15 হাজার শিক্ষার্থীকে এমবিবিএস অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে হবে। তবেই করোনা মাহমারি সহ দেশের চলমান চিকিৎসা সেবা ও সামনে আরও কোন মহামারিকে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ভেবে দেখবে বলে দেশের মানুষ আশা করছে।