ঢাকা, সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ ব্যাংক আইন (অর্ডিনেন্স), 2013 এবং গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের পুন:পেনশন সম্পর্কে মতামতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ধৃষ্টতা:

মহান সংসদে পাশ করা গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013 এর আলোকে গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এর কর্মকর্তা-কর্মচারিগন যেমন সরকারি নিয়মানুসারে সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছে তেমনি অবসরকারিগন সরকার ঘোষিত পুন:পেনশন সকল সুবিধা পাবে। ইতিমধ্যে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিয়ম অনুসরন করে পুন:পেনশন বাস্তাবায়ন করা হলেও্ দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকে অবসরকারিদের জন্য পুন:পেনশন সহ সরকার ঘেষিত অন্যান্য সুবিধা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। এক্ষেত্রে মহান সংসদে পাশ করা গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013 কে অসম্মান করে গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট সরকার ঘোষিত অবসরকারিদের জন্য পুন:পেনশন সহ অন্যান্য সুবিধাদি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের বানোয়াট, মিথ্যা, মনগড়া অপব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রামীণ ব্যাংকের পুন:পেনশন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তমূলক মতামত পোষন করেছে। যা নিতান্তই দু:খজনক। তবে মহান সংসদে পাশ করা গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013কে পাশ কাটিয়ে এসব মতামত দেওয়ার এখতিয়ার প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মচারির নেই। প্রজাতন্ত্রে চাকরি করে, প্রজাতন্ত্রের আইনের বিরুদ্ধে কোন ব্যাখ্যা দেওয়ার যেমন কারও এখতিয়ার নেই তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের আইন 2013 এর বিরুদ্ধে কোন মতামত দেওয়ার এখতিয়ারও প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তার নাই। একমাত্র দেশের আদালত এক্ষেত্রে শুধু আইনের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার রাখে।

যারা গ্রামীণ ব্যাংকের আইন 2013 এর বিরুদ্ধে তথা গ্রামীণ ব্যাংকের পুন:পেনশন বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তমূলক মতামত দিয়ে যাচ্ছে- তারা মূলত: দেশের আইনকে আমান্য করে মতামত দিয়ে ধৃষ্টতামূলক অপরাধের কাজ করছে। তাদেরকে আবারও গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013 কে সম্মান করে যথাযথ মতামত  প্রদানের জন্য – গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরকিারিগন অনুরোধ করছে।

গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013, যাহা 2013 সনের 56 নং আইন হিসেবে মহান জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে এবং যাহা আইন হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করেছে। মহান জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া দেশের সকল আইনের মত “গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013” একটি আইন বটে। দেশের সকল আইন যেমন দেশের মানুষের কল্যানের জন্য বাস্তবায়িত হয়, তেমনি “গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013” আইনটিও দেশের মানুষের কল্যানের জন্যই বাস্তবায়িত হবে- যা সম্পর্কে কারও অপরিস্কার থাকার কথা নয়। “গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013” আইনের গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য অংশিটিও গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কল্যানের জন্য বাস্তবায়িত হবে।

এরই সুবাধে শুরু থেকেই সরাকারি নিয়ম অনুসরণ করে গ্রামীণ ব্যাংকের সকল স্কেলপ্রাপ্ত কর্মীকে বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামীণ ব্যাংক ”পেনশন এন্ড ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট স্কীম” নামে 3/86 সার্কুলার জারি করে। ”পেনশন এন্ড ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট স্কীম” নামে জারিকৃত 3/86 সার্কুলারের 5.0 অনুচ্ছেদে পরিস্কার উল্লেখ করা আছে “ পেনশনের জন্য সরকারী নিয়ম-কানুন গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ ব্যাপারে সরকারের বিস্তারিত বিধিমালা আছে। সময়ে সময়ে পরিবর্তন সাপেক্ষে উক্ত বিধিমাল অনুযায়ী পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।”

সেক্ষেত্রে পরিস্কার যে, সরকার পেনশন সংক্রান্ত যখনই নিয়ম পরিবর্তন করবে – গ্রামীণ ব্যাংক তখনই সরকারের নিয়মকে অনুসরন করে তা বাস্তবায়ন করবে। উল্লেখ্য যে, গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সকল ক্ষেত্রেই সরকারি নিয়মকে অনুসরন করছে। নতুন পে-স্কেল সহ সকল পরিবর্তনকে গ্রামীণ ব্যাংকে যথাযথ সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।এমনকি পেনশন প্রদানেও সরকারি নিয়মকে অনুসরন করা হচ্ছে।

কিন্তু সরকার যখন 100% এর স্থলে 50% পেনশন স্যারেন্ডারের নিয়ম চালু করলো- তখন গ্রামীণ ব্যাংকের গুটিকয়েক কুচক্রি ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা –উক্ত সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে 100% পেনশন স্যারেন্ডার অব্যাহত রাখলো। এখান থেকেই শুরু হলো সরকারের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো। তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামাজিক সুরক্ষার জন্য ঘোষিত পুন:পেনশন ও অবসরকারিগনকে অন্যান্য ভাতাদি প্রদানের নির্দেশনাকে অমান্য করে গ্রামীণ ব্যাংকের কুচক্রি গুটিকয়েক কর্মকর্তা শুধু মাত্র তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উক্ত নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করছে না।

ইতিমধ্যে পুন:পেনশন বাস্তবায়নের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন গ্রামীণ ব্যাংকের চলামান ম্যানেজমেন্টের কাছে আবেদন নিবেদন করে আসছে। কিন্তু দু:খের বিষয় যে, প্রায় 4 বছর অতিক্রান্ত হলেও গ্রামীণ ব্যাংকে আজ পর্যন্ত পুন:পেনশন বাস্তবায়ন না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে অমান্য করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্থ করছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত 14 হাজার বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিষ্ঠাতা কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রায় 4 বছর যাবত বর্নিত পুন:পেনশন আদায়ের সুশৃংখল আন্দোলন করে যাচ্ছে।পাশাপাশি সরকারের না্না মহলে পুন:পেনশ বাস্তবায়নের জন্য আবেদন নিবেদন করে আসছে। দেশের সকল নিয়ম কানুন মেনে এবং দেশের শান্তি শৃংখলা রক্ষা করেই অবসরকারিগন পুন:পেনশন আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

তারই সুবাধে অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা শাখা-2 এর 19 ফেব্রুয়ারি 2019 মোতাবেক বলা হয় যে, “ গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্নিত আবেদনের বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক এর পরিচালনা  পর্যদ কর্তৃক বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হ’ল।” এই অনুরোধটি চেয়ারম্যান গ্রামীণ ব্যাংককে করা হয়।

অবসরপ্রাপ্তদের জানামতে চেয়ারম্যান, গ্রামীণ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রনালয়ের পত্র মোতাবেক বোর্ডে কোনরকম আলোচনা আজ পর্যন্ত করে নাই এবং এ বিষয়ে কোন পত্রও অবসরকারিদের এবং অর্থমন্ত্রনালয়কে অবহিত করে নাই।

কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় যে, গ্রামীণ ব্যাংকের কতিপয় কুচক্রি কর্মকর্তা তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা অর্থাৎ 100% পেনশন স্যারেন্ডার করে কোটি টাকা নিয়ে অবসরে যাওযায়র সুবিধা সহ অন্যান্য অবৈধ সুবিধা গ্রহনের আশায় তারা পুন:পেনশন বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে নানাহ অপকৌশল অবলম্বন করে পুন:পেনশন বাস্তবায়ন আজঅবধি বাধা দিয়ে যাচ্ছে। বরং পুন:পেনশনের ক্ষেত্রে উপরে বর্নিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন, গ্রামীণ ব্যাংকের জারিকৃত 3/86 সার্কুলার অমান্য করে চলেছে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের চলমান কর্মকর্ত-কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে সরকারি পে-স্কেল সহ অন্যন্য সুবিধাদি সরকারি নিয়ম অনুসারেই বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহনের লক্ষ্যে মহান সংসদে পাশ করা আইনকে অমান্য করে এই দ্বৈত ও পরস্পর বিরোধি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

গ্রামীণ ব্যাংকে 100% পেনশন স্যারেন্ডার করায় প্রতি বছর প্রায় হাজার খানেক মানুষ সামাজিক সুরক্ষার বাহিরে চলে যাচ্ছ- যা ক্রমাগতভাবে গানিতিক হারে বাড়ছে। ফলে সরকারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইহা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রায 14 হাজার অবসরকারি উক্ত অনিয়মের কারনে সামাজিক সুরক্ষার বাহিরে চলে গেছে এবং ইহা প্রতিবছর গানিতিক হার বাড়ছে।

বর্নিত গ্রামীণ ব্যাংকের কিছু অসাধু ও অসৎ কর্মকর্তা তাদের ব্যক্তিগত অবৈধ স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারের নানা মহলে মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া ও বর্নিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন 2013 এর অপব্যাখ্যা করে আসছে। অবসরকারিরাও তাদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশনের পক্ষে গ্রামীণ ব্যাংক আই্ন 2013 ও সংশ্লিষ্ট আইন ও এ সংক্রান্ত গ্রামীণ ব্যাংকের সার্কুলারের ব্যাখ্যা প্রদান করে আসছে। পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধ ও গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা 14 হাজার অবসরকারি কর্মকর্ত-কর্মচারী রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডে আজ পর্যন্ত পুন:পেনশনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। বোর্ড সদস্যগন –যারা গামীণ ব্যাংকের সদস্যও বটে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়- তাদের ইচ্ছা থাকলেও বর্তমান এমডি মনিরুল হক বোর্ডে পুন:পেনশনের আলোচনা করতে চায় না।

গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্ত-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা পুন:পেনশনের পক্ষে উপরে বর্নিত আইন সমূহ থাকার পরও কেন এবং কাদরে বিশেষ স্বার্থে পুন:পেনশন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না- আজ সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।