ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভিক্টোরিয়ার দেয়ালে ভেসে উঠবে পুরনো কলকাতা

কলকাতা: তখন ব্রিটিশ রাজ। রাজধানী কলকাতা থেকে ইংরেজরা শাসন করছে অখণ্ড ভারত।তখনও সেভাবে বিপ্লবের আঁচ গাঢ় হয়নি।

ঠিক সেই দিনগুলো কীভাবে সকাল-সন্ধ্যা কাটাতেন সাহেব-মেমরা? কখন সারতেন সকালের নাশতা বা দুপুর ও রাতের খাবার? কোথায় বেড়াতে যেতেন তারা। কেমন ছিলেন তাদের ভৃত্যরা? খানসামা আর খিদমগারের তফাতই বা কী ছিল? অথবা কেমন দেখতে ছিল ঘোড়ায় টানা ট্রাম? কতজনই বা চড়তেন? ইতিহাসের পাতা ছেড়ে চোখের সামনে ভেসে উঠবে সেই অচেনা কলকাতা।

সেই অজানা ইতিহাস শুধু ভারত নয়, বিশ্বের নতুন প্রজন্মকে জানাতে চায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিসৌধ ভিক্টোরিয়া। এ বিষয়ে শিগগিরই ইতিহাসের দরজা সবার জন্য খুলে দিচ্ছেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কর্তৃপক্ষ। সৌজন্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। আলো ও শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে ভিক্টোরিয়ার ধবধবে সাদা দেওয়ালে ভেসে উঠবে সে সময়ের ব্রিটিশদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। ভেসে উঠবে কলকাতার পুরনো পথঘাট। দেয়ালে ভেসে ওঠা চলমান তথ্যচিত্রে টগবগ শব্দে তুলে ঘোড়ায় টানা ট্রাম ছুটবে সাহেব-মেমদের নিয়ে। তার সঙ্গে জুড়িগাড়ি, স্থাপত্য, নিদর্শনসহ নানান ছবি এবং ভিডিও প্রতিচ্ছবি ফেলা হবে ভিক্টোরিয়ার দেয়ালে।

চলতি বছরেই ঐতিহ্যের শতবর্ষ পূর্ণ করেছে ভিক্টোরিয়া। ১৯২১ সালে প্রথম সর্বসাধারণের জন্য খোলা হয় এ স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার। দর্শক আগমনের ওই মুহূর্ত স্মরণ করতে এবং পুরনো কলকাতাকে ফিরে দেখার জন্য বিরাট এ আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। তবে আয়োজন বলতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে দু’টি পৃথক শো, যা ফুটে উঠবে ভিক্টোরিয়ার দেয়াল জুড়ে। চলতি মাসেই তা শুরু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কর্তৃপক্ষ।

তবে পুরনো কলকাতা তুলে ধরার এ ভাবনা আসে এ বছর ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে। ওই দিন ভিক্টোরিয়ায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ওই শো দেখে অভিভূত হন দর্শকরা। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ আসে, এ ধরনের শো আরও করার। বিষয়টি মাথায় রেখেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কর্তৃপক্ষ পুরনো দিনের কলকাতাকে ঘিরে তথ্যচিত্রের আঙ্গিকে বিশেষ এ শো দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন।

তথ্যচিত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তি। ব্যবহার করা হবে সিনে ইফেক্ট। থাকবে প্রজেকশন ম্যাপিং। ফলে পুরনো কলকাতা সবার কাছে উৎকৃষ্ট ও আকর্ষিত হবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। রাতের অন্ধকারে দারুণ এক আবহের সৃষ্টি করবে বলে অনুমান কর্তৃপক্ষের। এখন তা শুধু সময়ের অপেক্ষা।