ঢাকা, সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণখানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পেশাদার ৬ অপহরণকারী গ্রেফতার

রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পেশাদার অপহরণ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. সাদেকুল ইসলাম, মো. ইফরান, মোহাম্মদ আলী রিফাত, মো. কুতুব উদ্দিন, মো. মাছুম রানা ও গোলাম রাব্বি।

শনিবার দক্ষিণখানের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগজিন, একটি ছুরি, অপহৃত একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এ সময় তিনি বলেন, গত ২৯ নভেম্বর রাত সোয়া ৯টায় মো. আনোয়ারুল ইসলাম উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা অপহরণকারী চক্রের সদস্য মাইক্রোবাসযোগে ভিকটিমের কাছে আসে। চক্রটি সুকৌশলে ভিকটিমকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অপহরণকারীরা ভিকটিমের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের কাছ হতে বিকাশের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। মুক্তিপণ পাওয়ার পর অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমকে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, কিছুদিন আগে উত্তরায় একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে অপহরণ চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ চক্রটি রাজধানীতে গত কয়েক দিনে চারজনকে অপহরণ করেছে। এদের মধ্যে আনোয়ারুল একজন। প্রাথমিকভাবে ভিকটিমরা কেউই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি। তারা যখন দেখলো গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগ পাওয়া মাত্র একের পর এক অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের গ্রেফতার করছে, তখন আস্থা পেয়ে অভিযোগ নিয়ে ছুটে আসে পুলিশের কাছে। চারজন ভিকটিম এরই মধ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।

ভিকটিমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ না দেয়ার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, অপহরণকারীরা অপহরণের পর এ চক্রের নারী সদস্যদের দিয়ে ভিকটিমের অশ্লীল ছবি তুলে রাখতো, যাতে ভিকটিম মুখ খুলতে না পারে। যদি এ বিষয়ে পুলিশ অথবা অন্য কারো কাছে অভিযোগ করে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিকটিমের অশ্লীল ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখাতো। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে তারা চুপ থাকতো। এছাড়াও অস্ত্রের মুখে ভিকটিমদের জিম্মি করে রাখা হতো। যার ফলে তারা ভয়ে মুখ খুলতো না।

এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে, ভয় পেয়ে বা অন্য কোনো কারণে চুপ না থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে অথবা গোপনে পুলিশকে অবহিত করার জন্য সবাইকে আহ্বানও জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব ও বিমান বন্দর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।