ঢাকা, রবিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতারা শীত উদযাপনে, তাই ভোটকেন্দ্রে নেই : কাদের

বিএনপি নেতারা ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে শীত উদযাপনে ব্যস্ত থাকায় তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে দুর্বল করে দিচ্ছে, বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলের যে অভিযোগ বিএনপি এনেছে তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, তাহলে তাদের ৪ জন প্রার্থী ও দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থী কিভাবে বিজয়ী হলেন?

রোববার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা মাঠে না গিয়ে ঘরে বসে শীত উদযাপন করে। কর্মীরা ভোট দিতে চাইলেও মাঝ দুপুরে ভোট বর্জনের সংস্কৃতি তাদের তাড়া করে। তাই তারা ভোট কেন্দ্রে আসেন না। কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাওয়ায় এজেন্ট দেওয়ার লোক খুঁজে পায়না তারা।’

তিনি বলেন, ‘আসলে নেতৃত্বের দুর্বলতা আর অস্বচ্ছ রাজনীতিই বিএনপিকে ভোটের রাজনীতি থেকে দিন দিন পিছিয়ে দিচ্ছে। তারা জনগণের কাছে ভোট না চেয়ে সরকারের অন্ধ সমালোচনা ও মিথ্যাচারকেই ব্রত হিসেবে নিয়েছে। যা প্রকারান্তরে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে দুর্বল করে তুলছে।’

পৌরসভা নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছে, তারা রায় পেলেও ভবিষ্যতে দলের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আর বিবেচনায় আনা হবে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না এবং দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘তারা জয় হোক কিংবা পরাজয় হোক পরবর্তী নির্বাচনে আর মনোনয়ন পাবে না, এটাই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত।’

শনিবার দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এতে বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীগণ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয়ী সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা এবং সমৃদ্ধির বিজয়। এ বিজয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার বিজয় বলেও মত প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, নির্বাচন নিয়ে কথায় কথায় হতাশা প্রকাশ করেন, গতকালের নির্বাচনে জনগণ তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের জবাব দিয়েছে।

৬০টি পৌরসভার মধ্যে ২৯টিতে ইভিএম এবং ৩১টিতে ব্যালটে ভোট হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইভিএমে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তাদের মধ্যে ছিলো না কোন জড়তা। ইভিএমে ভোট প্রদানে জনগণের আগ্রহ এখন অনেক বেড়েছে। আড়ানি পৌরসভায় ইভিএমে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। সবচেয়ে কম যে ভোট পড়েছে তাও ৫৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে নির্বাচন মানেই হানাহানি, সংঘাত আর প্রাণহানি লেগেই থাকতো। বর্তমান সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ইউনিটে নির্বাচনে হানাহানি ও অস্ত্রের মহড়া বন্ধ হয়েছে।ওবায়দুল কাদের সিরাজগঞ্জে নির্বাচন উত্তর যে সংঘাত হয়েছে তা দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করছি পরবর্তী নির্বাচনগুলো আরো সংঘাতমুক্ত হবে। শান্তিপূর্ণ হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দায়িত্ব পালনে আরো কঠোর ভূমিকা পালন করারও নির্দেশ দেন তিনি।