ঢাকা, সোমবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মানব বর্জ্য থেকে ট্রেনের জ্বালানি!

বিমানের মতো উন্নত নয় রেল পরিষেবা। কয়লা-চালিত ইঞ্জিন অবলুপ্ত হলেও এখনও বহু দেশেই প্রচলন রয়েছে ডিজেল ইঞ্জিনের। অন্যদিকে বিদ্যুৎ-চালিত ট্রেন ইঞ্জিনে দূষণ ন্যূনতম হলেও ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মূল জ্বালানি কয়লা। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্পের সন্ধান দিল যুক্তরাজ্যের একটি সংস্থা। অপ্রচলিত শক্তির মাধ্যমেই চলবে তাদের বানানো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ট্রেন ইঞ্জিন।

যুক্তরাজ্যের ওয়ার্সেস্টার-ভিত্তিক সংস্থা আল্ট্রা-লাইট রেলের প্রযুক্তিবিদরা তৈরি করেছেন অভিনব ট্রেন লোকোমোটিভ। নাম বায়োআল্ট্রা। মানুষ, অন্যান্য প্রাণী কিংবা প্রাকৃতিক জৈব বর্জ্য পদার্থকে ব্যবহার করে তৈরি মিথেন গ্যাস দিয়েই চলবে এই ইঞ্জিন। এর ফলে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্নতার একটি সমাধান আসবে, তেমনই জ্বালানি খরচও চলে আসবে হাতের মুঠোয়।

ট্রেন ইঞ্জিনের মধ্যেই এক বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে যা বায়োমিথেনকে পরিণত করবে বিদ্যুতে। তারপর তা দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করে ঘোরানো হবে ট্রেনের চাকা। একবার জ্বালানি ভরলে ২০০০ মাইল অবধি চলতে পারবে এই নতুন ট্রেন। ছুটবে সর্বোচ্চ ৫০ মাইল গতিবেগে। নতুন এই ট্রেনের দৈর্ঘ্যে প্রায় ২০ মিটার। যাত্রী বহন করতে পারবে ১২০ জন।

এছাড়া একটিমাত্র কোচ হওয়ায় কমবে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ। ডিজেলের ব্যবহার না হওয়ায় নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইডও উৎপাদিত হবে না। ফলে পরিবেশের ক্ষতিকে এড়ানো যাবে সম্পূর্ণভাবেই।

আল্ট্রা-লাইট রেল পার্টনার্সের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার মাল্টিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে বায়োমিথেন সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হতে পারে। আমি আনন্দিত যে, বায়োমিথেন দ্বারা চালিত বিশ্বের প্রথম ট্রাম-ট্রেন আমরা তৈরি করতে পেরেছি, স্থানীয় পর্যায়ে এর আরো উৎপাদন অব্যাহত রাখা হবে।’