‘ঐক্যফ্রন্ট কেতাবে আছে, কাজে নাই’ বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হয়েছে এখনও দেশে স্বৈরশাসন চলছে এবং আইয়ুব যে রকম করে ক্ষমতা চালিয়ে ছিলেন, এরশাদ যে রকম করে ক্ষমতা চালিয়ে ছিলেন। সেই রকম করে অথবা তার চেয়ে ভয়ঙ্করভাবে তারা (আওয়ামী লীগ) দেশ চালাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মানুষের জীবন এদের কাছে এতই তাচ্ছিল্য যে এরা মানুষকে মানুষই মনে করে না।’
রবিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স রুমে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে জানুয়ারি স্বৈরশাসক এবং গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, ‘আইয়ুব খানের আমলে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ লাল ফিতে নিয়ে সামনের দাঁড়াতো। এই লাল ফিতে অর্থ হচ্ছে, এটা পার হলেই গুলি করা হবে। তখন এক আসাদের মৃত্যুতেই পূর্ব পাকিস্তানে বর্তমান বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তখন মৃত্যু মানুষকে এত বেশি আলোড়িত করত। আর বর্তমানে মানুষের জীবন যেন কচু পাতার পানির মতো। যে রকম করে মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেক দুঃখজনক, হৃদয় বিদারক। কিন্তু মানুষ দেখেও দেখছে না। এর কারণ হলো দেখতে দেখতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার কারণে স্বাধীনতার আগে মানুষ যে রকম আলোড়িত হতো এখন আর হয় না।’
মান্না বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে সরকার এমনি এমনি চলে যাবে, তাহলে ভুল মনে করবেন। আবার যদি মনে করেন, সব দল ঐক্যবদ্ধ হলে তারপরে মাঠে নামবো। ঐক্য তো ছিল ২০ দল, ঐক্যফ্রন্ট ছিল। সেগুলো কি আছে এখন? নাই, আমি বলতে পারি না। তবে আছে, কাজীর গরু। কেতাবে আছে কাজে নাই। যদি তাই হত তাহলে এই যে ভোট ডাকাতির দিন গেল ৩০ ডিসেম্বর। একটা সভা করতে পারতাম না? যদি সভা ডাকত এবং মানুষ জানত তাহলে মানুষের ঢল নাম তো। এটা আটকানোর ক্ষমতা তাদের (আওয়ামী লীগের) থাকতো না। কিন্তু করবেন না আপনারা। করছেন না তো। যদি মনে করেন ক্ষমতা হেঁটে হেঁটে ড্রইং রুমে আসবে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।’
এসময় তিনি ছোট ছোট সংগঠন গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা নিজেরা বসে ঠিক করেন দেশের জন্য কি করতে পারি। কোনও রাজনীতিবিদের ডাকার দরকার নাই। কিছুই যদি না পারেন অন্তত টিকা যাতে সঠিকভাবে পাই সেজন্য মানববন্ধন করেন।’
সংগঠনের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম এর সভাপতিত্বে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা ।