জাতীয়, রাজধানী, রাজনীতি, সারাদেশ মোবাইল অপারেটরদের প্রতারনার ফাঁদ বন্ধ হোক

মোবাইল অপারেটরদের প্রতারনার ফাঁদ বন্ধ হোক

পোস্ট করেছেন: Aminul Islam Bulu | প্রকাশিত হয়েছে: April 24, 2018 , 2:15 pm | বিভাগ: জাতীয়,রাজধানী,রাজনীতি,সারাদেশ

সাহিন রহমান : পল্লীবীস্থ সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকার স্থানীয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এক আলোচনা সভায় সোমবার বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর জেনারেল বডির মেম্বার আমিনুল ইসলাম বুলু বলেন – মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের এসএমএস আসে। এত বেশি অপ্রয়োজনীয় এসএমএস আসে যে, প্রয়োজনীয় বার্তাটিও সময়মতো খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ইন্টারনেট প্যাকেজ সংক্রান্ত এসএমএস আসে। প্যাকেজ শেষ হলে সেই সার্ভিস কেন অটোমেটিক বন্ধ করে দেওয়া হয় না? কিংবা গ্রাহককে এসএমএস দিয়ে কেন জানানো হচ্ছে না? গ্রাহকের পছন্দ হলে আবার চালু করে নেবে। এখন কোনো সার্ভিস চালু করতে তো টাকা-পয়সা লাগে না।

আমাদের দেশের মোবাইল অপারেটররা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সেবা প্রদানের নাম করে গ্রাহককে না জানিয়ে সার্ভিস চার্জ কেটে রাখছে। অথচ গ্রাহক কখনো সেই সার্ভিস চালুই করেনি বা সেই সার্ভিস সম্পর্কে সামান্য কোনো ধারণা নেই। আমরা যারা মোবাইল ব্যবহার করি, মোবাইল রিচার্জ (সেটা ১০০ কিংবা ২০০ টাকা) করার পর সব সময় ব্যালেন্স খেয়াল করা হয় না। কারণ প্রায় প্রতিদিনই মোবাইল রিচার্জ করা লাগে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে মোবাইল অপারেটররা। যদি কাস্টমার কেয়ারে টাকা কেটে রাখার ব্যাপারে ফোন করে অভিযোগ জানানো হয়, তবে সেখান থেকে বলা হয়, ‘আপনার অমুক সার্ভিস চালু ছিল, সে কারণে টাকা কেটে রাখা হয়েছে’। কী আজব কথা তাদের! এই সার্ভিস চালু করল কে? অটোমেটিক কোনো সার্ভিস যেন চালু হয়ে না যায়, সে বিষয়ে অবশ্যই কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। ১০০ টাকা রিচার্জ করলেই ২০ টাকা/৩০ টাকার বিভিন্ন সার্ভিস চালু থাকার কারণে কেটে রাখা হবে অথচ গ্রাহক সেই সার্ভিস সম্পর্কে কিছুই জানবে না, সেটা আমাদের জন্য সুখকর কোনো খবর না। আর বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য যে মূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়, তার সঙ্গে যেন আর কোনো গোপনীয় চার্জ না থাকে। পরিচিত অনেকের কাছ থেকে অভিযোগ শোনা যায়, ৫০ টাকা দিয়ে একটি প্যাকেজ নেওয়ার পর কেটে নিচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। অথচ ঘোষণায় বলা হয়ে থাকে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ৫০ টাকা। মূল কথা হচ্ছে, ১০-২০ টাকার জন্য কেউ সাধারণত উচ্চবাচ্য করে না। অনেকেই ভেবে নেন, পরবর্তীতে হয়তো আর এরকম হবে না। আর সেই সুযোগটাই নিচ্ছে কিছু অপারেটর। এটা অবশ্যই নৈতিকতা-বহির্ভূত বাণিজ্য। আর প্যাকেজেরও নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকা প্রয়োজন। যখন যেমন ইচ্ছা, তেমন প্যাকেজের একটা বার্তা গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক সেটাও দেখার বিষয়। আবার অনেক সার্ভিসের মেয়াদ একবার শেষ হলে পরবর্তীতে অটোমেটিক চালু হয়ে যায়। গ্রাহক হয়তো জানেই না, সার্ভিসটি পুনরায় চালু হয়ে গেছে।

যেহেতু ফোন অপারেটরদের নিয়ে অনেকেরই এখন অভিযোগ শোনা যায়, সে জন্য গ্রাহকরা যেন সহজে মোবাইল সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের অভিযোগ জানাতে পারে, সে বিষয়েও প্রচারণা প্রয়োজন। কারণ অনেকেই জানে না, না জানিয়ে সার্ভিসের নামে টাকা কেটে রাখলে, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে। এটা সবার জানা প্রয়োজন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ছাড়া বর্তমান পৃথিবী কল্পনাও করা যায় না। আর সেই সুযোগের অপব্যবহার যেন কোনো মোবাইল অপারেটর না করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ দিন শেষে আপনার-আমার কষ্টের উপার্জিত টাকাই পকেট থেকে চলে যাচ্ছে। গ্রাহকরা মোবাইল টাকা রিচার্জ করলে সার্ভিস চার্জের নাম করে টাকা কেটে নিয়ে যায় কিন্তু গ্রাহকদের মেসেজ দিয়ে জানানো হয় না, যার কারণে মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ীদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মোবাইল অপারেটরদের প্রতারণার কারণে গ্রাহকরা রিচার্জ ব্যবসায়ীদের সাথে ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হয় এমনকি মারামারি পর্যায় চলে যায়। আলোচনায় সভায় বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব ও জনস্বার্থে বাংলাদেশের মহাসচিব মো: সাইফুল ইসলাম, শরীয়তপুর ফাউন্ডেশনের মহা সচিব, মো: বাচ্চু বেপারী, এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও এফবিসিসিআই এর জেনারেল বডির মেম্বার মো: জালাল আহমেদ মৃধা, মো: ইব্রাহিম খান, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, আমিনুল ইসলাম প্রিন্স, জনস্বার্থে বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসান নছরু, মামুন হোসেন, ইব্রাহিম হাসান মিঠু প্রমুখ।