Uncategorized কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, জামালপুরে অবনতি

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, জামালপুরে অবনতি

পোস্ট করেছেন: Aminul Islam Bulu | প্রকাশিত হয়েছে: July 8, 2018 , 5:51 am | বিভাগ: Uncategorized

দেশের কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আবার কোথাও অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রামের পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। অন্যদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অবনতি হয়েছে জামালপুরে। সুনামগঞ্জেও পানি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ধরলা নদীর পানি কমতে শুরু করায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শনিবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় ধরলার পানি ৪১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদী অববাহিকার চরাঞ্চলের ঘর-বাড়ি থেকে পানি নামলেও নিচু এলাকা থেকে পানি নামেনি। তিনদিনের মাথায় বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে পানিবন্দী চরাঞ্চলের মানুষদের মাঝে। কিন্তু পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে এসব এলাকার মানুষজনের।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, ধরলা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা হবে।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে ৩৭ সেন্টি মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর পূর্বপাড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাইলিং বাঁধের নিঁচু স্থান দিয়ে পানি হু হু করে ঢুকছে। ফলে যমুনা ঘেষা দক্ষিন চিনাডুলীর দেওয়ানপাড়া গ্রাম ও ডেবরাইপ্যাঁচ বাজারের দোকানপাট ও জনবসতি এলাকায় তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল সকাল থেকে পানির স্রোতে যমুনা তীর ঘেষা দেওয়ানপাড়া এলাকার তোতা বেপারি, শাহজাদা বেপারি, লাল মিয়া, রেজাউল ইসলাম ও শাহীন মিয়ার পাঁচটি বসতঘর পানির তোড়ে ধ্বসে পড়েছে। স্থানীয় পুইয়াকাটা খাল ঘেষা ডেবরাইপ্যাঁচ বাজারের ২৯টি দোকান মালিক ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন। পানির প্রবল স্রোতে পুটিয়াকাটা খালের ওপর নির্মিত ডেবরাইপ্যাঁচ বাজার-ইসলামপুর সড়কের বড় সেতুটির এপ্রোজের মাটি ও বালির বস্তাও ধসে পড়ছে। স্থানীয়রা ঘরবাড়ি, মালামাল ও গবাদিপশু অন্যত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। বন্যার পানি বৃদ্ধি ফলে চিনাডুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিনাডুলী উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, ড্যারাইপ্যাচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পৌরশহর ও গ্রামাঞ্চলের ঘর-বাড়ি থেকে পানি ধীরে-ধীরে নেমে যাচ্ছে। সুরমা নদীর পানি কিছু কমলেও প্লাবিত হচে জেলার নিম্নাঞ্চল। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও দোয়ারাবজার, ছাতক, জগন্নাথপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক শ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
রংপুর অফিস জানায়, বরাদ্দ না পাওয়ায়  রংপুরের তিস্তা নদীর ডান তীরের বাঁধ মেরামত হয়নি। ফলে এখন তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি হলেই বন্যা কবলিত হচ্ছে এই এলাকার মানুষ। গত বছরের বন্যায় তিস্তা নদীর তীররক্ষা বাঁধের ২০টি ও খালের বাঁধের পাঁচটি স্থান পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায়। এসব স্থান মেরামতের জন্য ১৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে বরাদ্দ চেয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো)। বরাদ্দ না আসায় ডান তীর বাঁধের আট থেকে দশটি স্থানের ভাঙ্গন এখনো মেরামত করা হয়নি।